
মোঃ নুর নবী জনিঃ-
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দখল ও দূষণে ‘নষ্ট’ হয়ে যাওয়া খালগুলো খননের মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জনগণের স্বার্থে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় এই কার্যক্রম আড়াইহাজার উপজেলা দিয়ে শুরু হয়েছে। খালগুলো খনন করা সম্ভব হলে জলাবদ্ধতা দূর করে এবং কৃষিকাজের সেচেও উপকার পাওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।
সংসদ সদস্য বলেন, খাল খনন হলে পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। জলাবদ্ধতা দূর হবে, সেচের জন্য ভালো হবে, কৃষিকাজের জন্য ভালো হবে। সকল গুণাগুণ বুঝে আবার প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের উপকারের জন্য খাল খনন স্টার্ট করেছেন।
আড়াইহাজারের নষ্ট হওয়া খালগুলো খনন করে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে আনবো। যাতে জলাবদ্ধতা দূর হয়, কৃষিকাজের জন্য ভালো হয় এবং আপনারা প্রাকৃতিক মাছ পান। এটি পরিবেশের জন্যও ভালো কিছু হবে,যোগ করেন এমপি নজরুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলার খাল খনন কর্মসূচির প্রথম স্টেপের উদ্বোধন কিন্তু আড়াইহাজারে হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার আপনাদের সময় দিয়ে আড়াইহাজারবাসী অলংকৃত করেছেন। আপনাদের আড়াইহাজারের সংসদ সদস্য হিসেবে আছি। আপনারা আছেন বলেই আমি আছি। আপনারা না থাকলে আমিও নাই। আপনাদের কাজ করাই আমার কাজ। যেটা আপনাদের জন্য ভালো হবে, আড়াইহাজারের কল্যাণ বয়ে আনবে আমি সেই কাজটি করতে চাই। আমি আড়াইহাজারের মানুষের হৃদ্ধতা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা নিয়ে সামনে আগাইতে চাই।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশে শুরু করেছিলেন- উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, “এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি বলেছিলেন, ‘ভাতে মাছে বাঙালি’। সেই সময় বাংলাদেশের মানুষ মাছ ও ভাত খেতে পছন্দ করতো। তাই আমাদেরকে ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটা ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার সেই খাল খননের কর্মসূচি নিয়েছেন। শুরু হয়েছে এবং বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমাদের ৩১ দফায় এই খাল খনন কর্মসূচি ছিল। এই নির্বাচনের আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘ভাতে মাছে বাঙালির’ অবস্থা আবার মানুষের মুখে মুখে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির এ সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, “খালগুলো ঠিকঠাকমতো খনন হলে মাছের উৎপাদনেরও অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকবে। মাছ চাষও হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু নদী, খাল, বিল, হাওড়-বাওড়ের মাছ একটু আলাদা, এগুলো প্রাকৃতিক। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের নেতা, হৃদয়ের বাদশা, বিএনপির চেয়ারম্যান খাল খননের মাধ্যমে এই অবস্থা ফিরিয়ে আনবেন।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা।